কুরআনে বর্ণিত নবীগণের আগমনক্রম, ২৫ জন নবীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও তাঁদের প্রচার অঞ্চল

আলম এম.আলম এম.২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পবিত্র কুরআনে সব নবীর নাম বা তাঁদের আগমনের ধারাবাহিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা একসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সূরায় বর্ণিত সুস্পষ্ট আয়াত, জাতির পর জাতির উত্থান-পতনের বিবরণ এবং ঐশী বক্তব্যের মাধ্যমে বহু নবীর ক্ষেত্রে কার পর কে এসেছেন এবং তাঁদের আপেক্ষিক সময়কাল কী ছিল—তার সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক বিবরণ ও অকাট্য ইঙ্গিত বিদ্যমান।

📖

কুরআনের ইতিহাসদর্শনের মূল সুর:

কুরআন কোনো শুষ্ক কালানুক্রমিক ইতিহাসের বই হিসেবে নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত ও পথনির্দেশ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। তাই ২৫ জন নামোল্লিখিত নবীর নাম পুরো কুরআনের বিভিন্ন সূরায় তাঁদের প্রাসঙ্গিক শিক্ষা, দাওয়াত ও জাতির চারিত্রিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ছড়িয়ে রয়েছে।

১

কুরআনে যেভাবে ধারাবাহিকতা বা সময়ক্রম নির্দেশিত হয়েছে

১.১

নূহ (আ.)-এর পরবর্তী জাতি ও নবীগণ

কুরআনে বারবার উল্লেখ রয়েছে যে, আদম (আ.) ও নূহ (আ.) ছিলেন মানবজাতির আদি পর্বের নবী। সূরা আল-আ‘রাফ ও সূরা হূদে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নূহ (আ.)-এর সম্প্রদায়ের মহাপ্লাবনের পর ‘আদ জাতির কাছে হূদ (আ.)-কে পাঠানো হয়; এবং ‘আদ জাতির ধ্বংসের পর সামূদ জাতির কাছে পাঠানো হয় সালেহ (আ.)-কে:

পবিত্র কুরআন — বাণী

وَٱذْكُرُوٓا۟ إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَآءَ مِنۢ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍۢ

“স্মরণ করো, যখন তিনি নূহের সম্প্রদায়ের পর তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন...” — সূরা আল-আ‘রাফ, ৭:৬৯ (হূদ আ.-এর বক্তব্য)

পবিত্র কুরআন — বাণী

وَٱذْكُرُوٓا۟ إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَآءَ مِنۢ بَعْدِ عَادٍۢ

“স্মরণ করো, যখন তিনি ‘আদ জাতির পর তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন...” — সূরা আল-আ‘রাফ, ৭:৭৪ (সালেহ আ.-এর বক্তব্য)

১.২

ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর সমকালীন ও বংশধর নবীগণ

লূত (আ.): তিনি ইব্রাহিম (আ.)-এর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর আহ্বানে ঈমান এনেছিলেন (সূরা আল-আনকাবূত: ২৬)। ফেরেশতারা লূত (আ.)-এর কওম সাদূম ধ্বংস করতে যাওয়ার পূর্বে ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে মেহমান বেশে সুসংবাদ নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন।

ইসমাইল (আ.) ও ইসহাক (আ.): তাঁরা ইব্রাহিম (আ.)-এর দুই সুযোগ্য পুত্র (সূরা ইব্রাহিম: ৩৯)। ইসমাইল (আ.) জ্যেষ্ঠ এবং ইসহাক (আ.) দ্বিতীয় পুত্র।

ইয়াকুব (আ.) ও ইউসুফ (আ.): ইসহাক (আ.)-এর পুত্র ইয়াকুব (আ.) এবং ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র ইউসুফ (আ.)। সূরা ইউসুফে ইউসুফ (আ.) নিজের বংশপরম্পরা স্পষ্ট করে বলেন:

পবিত্র কুরআন — বাণী

وَٱتَّبَعْتُ مِلَّةَ ءَابَآءِىٓ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ ۚ

“আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্ম অনুসরণ করি...” — সূরা ইউসুফ, ১২:৩৮

১.৩

ইউসুফ (আ.)-এর পরবর্তী যুগ এবং মূসা (আ.)

সূরা গাফিরে (আয়াত ৩৪) মূসা (আ.)-এর যুগে ফেরাউনের পরিবারের এক গোপন মুমিন ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে:

وَلَقَدْ جَآءَكُمْ يُوسُفُ مِن قَبْلُ بِٱلْبَيِّنَـٰتِ

অনুবাদ: “পূর্বে তোমাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসহ ইউসুফ এসেছিলেন...” — সূরা গাফির, ৪০:৩৪

এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, মিসরে ইউসুফ (আ.)-এর শাসন ও ইন্তিকালের বেশ কিছু প্রজন্ম পরে বনী ইসরাঈলকে ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে মূসা (আ.) ও তাঁর সহোদর ভ্রাতা হারূন (আ.)-এর আগমন ঘটে।

১.৪

মূসা (আ.)-পরবর্তী বনী ইসরাঈলের নবীগণ

সূরা আল-বাকারায় মূসা (আ.)-এর কিতাব প্রাপ্তির পর একের পর এক রাসূলের আগমনের কথা সুস্পষ্টভাবে বিধৃত:

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَـٰبَ وَقَفَّيْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ بِٱلرُّسُلِ ۖ

অনুবাদ: “আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পর একের পর এক রাসূল পাঠিয়েছি...” — সূরা আল-বাকারা, ২:৮৭

এর কিছু আয়াত পরেই (সূরা আল-বাকারা: ২৪৬) মূসা (আ.)-এর পরবর্তী একদল বনী ইসরাঈলের নেতার প্রসঙ্গ আসে, যার ধারাবাহিকতায় তালুত, দাউদ (আ.) এবং পরবর্তীতে দাউদ (আ.)-এর পুত্র সুলাইমান (আ.)-এর রাজত্ব ও নবুওয়তের অবিচ্ছেদ্য বিবরণ আসে:

পবিত্র কুরআন — বাণী

وَوَرِثَ سُلَيْمَـٰنُ دَاوُۥدَ ۖ

“এবং সুলাইমান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন...” — সূরা আন-নামল, ২৭:১৬

১.৫

ঈসা (আ.) ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ ﷺ

কুরআনে ঈসা (আ.)-কে বনী ইসরাঈলের শেষ রাসূল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি তাঁর পূর্বে থাকা তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং তাঁর পরে আগত রাসূলের প্রকাশ্য সুসংবাদদাতা:

পবিত্র কুরআন — বাণী

وَإِذْ قَالَ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ يَـٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِنِّى رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَىَّ مِنَ ٱلتَّوْرَىٰةِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُولٍۢ يَأْتِى مِنۢ بَعْدِى ٱسْمُهُۥٓ أَحْمَدُ ۖ

“আর যখন মারইয়াম-পুত্র ঈসা বললেন, হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমাদ নামের এক রাসূলের সুসংবাদদাতা...” — সূরা আস-সাফফ, ৬১:৬

এবং সূরা আল-আহযাবে মুহাম্মদ ﷺ সম্পর্কে চূড়ান্ত নবুওয়তের ইতি টেনে ঐশী ঘোষণা দেওয়া হয়:

পবিত্র কুরআন — বাণী

مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدٍۢ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَـٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ ۗ

“...বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী (খাতামুন নাবিয়্যীন)।” — সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৪০

২

সংক্ষেপে প্রধান প্রধান নবীদের ঐতিহাসিক পর্যায়ক্রম

কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও প্রামাণিক তাফসিরের আলোকে প্রধান নবীগণের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা এভাবে সুনির্দিষ্ট ৫টি পর্বে স্পষ্ট হয়:

ঐতিহাসিক পর্যায়

নবীগণের কালানুক্রমিক ধারা

১. আদি যুগ

আদম (আ.)

➔

নূহ (আ.)

২. প্রাচীন আরব জাতিসমূহ

হূদ (আ.) [‘আদ জাতি]

➔

সালেহ (আ.) [সামূদ জাতি]

৩. ইব্রাহিমী বংশধারা

ইব্রাহিম (আ.)

(সমকালীন: লূত আ.)

➔

ইসমাইল (আ.) ও ইসহাক (আ.)

➔

ইয়াকুব (আ.)

➔

ইউসুফ (আ.)

৪. বনী ইসরাঈল পর্ব

মূসা (আ.) ও হারূন (আ.)

➔

দাউদ (আ.)

➔

সুলাইমান (আ.)

➔

জাকারিয়া (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.)

➔

ঈসা (আ.)

৫. সর্বশেষ পর্ব

মুহাম্মদ ﷺ (খাতামুন নাবিয়্যীন)

৩

কুরআনে নামোল্লিখিত ২৫ জন নবীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও প্রচার অঞ্চল

ঐতিহাসিক সময়ক্রম অনুসারে কুরআনে নামোল্লিখিত ২৫ জন নবী-রাসূল এবং তাঁদের প্রধান প্রচার অঞ্চল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

ক্র.

নবী / রাসূল

প্রধান প্রচার অঞ্চল / কার্যক্ষেত্র

কুরআনিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১

আদম (আ.)

মক্কা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল

মানবজাতির আদি পিতা ও প্রথম নবী।

২

ইদরীস (আ.)

ব্যাবিলন (বর্তমান ইরাক) / মিসর

নূহ (আ.)-এর পূর্ববর্তী প্রবীণ নবী; জ্ঞান ও লিখনপদ্ধতির সূচনা তাঁর যুগে বলে বর্ণিত।

৩

নূহ (আ.)

মেসোপটেমিয়া (দক্ষিণ ইরাক)

মহাপ্লাবনের নবী; দীর্ঘ ৯৫০ বছর নিজ জাতিকে একত্ববাদের পথে আহ্বান জানান।

৪

হূদ (আ.)

আহকাফ (দক্ষিণ আরব / ইয়েমেন-ওমান সীমান্ত)

নূহ (আ.)-এর পর প্রাচীন শক্তিশালী ‘আদ জাতির প্রতি প্রেরিত রাসূল।

৫

সালেহ (আ.)

আল-হিজর / মাদায়েন সালেহ (উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরব)

‘আদ জাতির পর সামূদ জাতির প্রতি প্রেরিত; যারা পাহাড় কেটে সুরক্ষিত ঘর বানাত।

৬

ইব্রাহিম (আ.)

ইরাক (ব্যাবিলন), শাম (ফিলিস্তিন/সিরিয়া) ও হিজাজ (মক্কা)

তাওহীদের মূল স্তম্ভ, বহু নবীর পিতা এবং পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে পবিত্র কাবা পুনর্নির্মাণকারী।

৭

লূত (আ.)

সাদূম ও গোমরাহ (বর্তমান জর্ডান ও মৃত সাগর/ডেড সি এলাকা)

ইব্রাহিম (আ.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র ও সমসাময়িক নবী।

৮

ইসমাইল (আ.)

হিজাজ (মক্কা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

ইব্রাহিম (আ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র; কাবার ভিত্তি স্থাপনকারী এবং কুরাইশ ও আরবদের পূর্বপুরুষ।

৯

ইসহাক (আ.)

কান‘আন (ফিলিস্তিন ও পার্শ্ববর্তী শাম অঞ্চল)

ইব্রাহিম (আ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র; বনী ইসরাঈল নবী ধারার মূল পূর্বপুরুষ।

১০

ইয়াকুব (আ.) [ইসরাঈল]

কান‘আন (ফিলিস্তিন) ও পরবর্তী সময়ে মিসর

ইসহাক (আ.)-এর পুত্র; তাঁর বারো পুত্রের মাধ্যমেই বনী ইসরাঈলের ১২টি গোত্রের বিস্তার ঘটে।

১১

ইউসুফ (আ.)

প্রাচীন মিসর

ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র; মিসরের খাদ্যমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল শাসক হন।

১২

আইয়ুব (আ.)

হাওরান অঞ্চল (দক্ষিণ সিরিয়া / জর্ডান সীমান্ত)

চরম অসুস্থতা ও প্রতিকূলতার মুখে অসীম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক।

১৩

শুআইব (আ.)

মাদইয়ান (উত্তর-পশ্চিম আরব ও আকাবা উপসাগরীয় তীর)

ওজনে কম দেওয়া ও লেনদেনে অন্যায়কারী কওম মাদইয়ানের কাছে প্রেরিত।

১৪

মূসা (আ.)

প্রাচীন মিসর ও সিনাই উপদ্বীপ

বনী ইসরাঈলকে ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্তকারী এবং তাওরাত কিতাব প্রাপ্ত কালিমুল্লাহ।

১৫

হারূন (আ.)

প্রাচীন মিসর ও সিনাই উপদ্বীপ

মূসা (আ.)-এর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ও নবুওয়তের দায়িত্ব পালনে তাঁর প্রধান সহযোগী।

১৬

যুল-কিফল (আ.)

শাম / ইরাক অঞ্চল

অটল ধৈর্য ও সত্যবাদিতার জন্য কুরআনে প্রশংসিত নবী।

১৭

দাউদ (আ.)

জেরুজালেম / ফিলিস্তিন

জালুতকে পরাজিতকারী, আসমানি কিতাব ‘জাবুর’ প্রাপ্ত এবং ন্যায়পরায়ণ নবী-বাদশাহ।

১৮

সুলাইমান (আ.)

জেরুজালেম / শাম অঞ্চল

দাউদ (আ.)-এর পুত্র; বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণকারী এবং বায়ু ও জিনদের ওপর কর্তৃত্বপ্রাপ্ত বাদশাহ।

১৯

ইলিয়াস (আ.)

বালবেক (বর্তমান লেবানন ও তৎসংলগ্ন শাম)

বাল মূর্তির পূজারী বনী ইসরাঈল গোষ্ঠীর সংশোধনে প্রেরিত।

২০

আল-ইয়াসা‘ (আ.)

শাম অঞ্চল (সিরিয়া/ফিলিস্তিন)

ইলিয়াস (আ.)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সত্য প্রচারকারী নবী।

২১

ইউনুস (আ.)

নিনেভা (বর্তমান মসুল, উত্তর ইরাক)

মাছের পেটে থাকা অবস্থায় গভীর তাওবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নবী।

২২

জাকারিয়া (আ.)

জেরুজালেম / ফিলিস্তিন

মারইয়াম (আ.)-এর অভিভাবক এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের বিশিষ্ট সেবক।

২৩

ইয়াহইয়া (আ.)

ফিলিস্তিন ও জর্ডান নদী উপত্যকা

জাকারিয়া (আ.)-এর পুত্র এবং ঈসা (আ.)-এর সমসাময়িক সত্যবাদী নবী।

২৪

ঈসা (আ.)

ফিলিস্তিন (নাসিরাত, বাইত লাহাম, জেরুজালেম)

মারইয়াম (আ.)-এর পুত্র, বনী ইসরাঈলের শেষ রাসূল, ইনজিল প্রাপ্ত এবং শেষ নবীর সুসংবাদদাতা।

২৫

মুহাম্মদ ﷺ

মক্কা ও মদিনা (আরব উপদ্বীপ)

সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল (খাতামুন নাবিয়্যীন); সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত।

🌿

সমাপনী ও মূল শিক্ষা: ঐশী ইতিহাসের পথনির্দেশ

পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন জাতি ও তাঁদের কাছে প্রেরিত নবীগণের এই ধারাবাহিক বিবরণ কোনো গল্পগাথা বা সাধারণ ইতিহাসের সংকলন নয়; বরং এতে রয়েছে মানবজাতির জন্য গভীর প্রজ্ঞা ও শিক্ষা:

✨

১. তাওহীদের একমুখী ও অভিন্ন বার্তা:

আদম (আ.) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ ﷺ পর্যন্ত সব নবী-রাসূলের মূল বাণী ছিল অভিন্ন—একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং যাবতীয় তাগুত ও শিরক বর্জন করা। স্থান, কাল ও অঞ্চলভেদে শরীয়তের কিছু প্রায়োগিক বিধানে পরিবর্তন এলেও বিশ্বাসের মূলভিত্তি (আকিদা) সর্বদাই এক ছিল।

⚖️

২. ইতিহাসের শিক্ষা ও জবাবদিহিতা:

নবীগণের এই ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যেসব জাতি সত্যের আহ্বান উপেক্ষা করে অহংকার ও জুলুমের পথ বেছে নিয়েছিল—যেমন ‘আদ, সামূদ কিংবা ফেরাউনের সম্প্রদায়—তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেছে। আর যারা ঈমান ও ধৈর্যের পথ বেছে নিয়েছিলেন, চূড়ান্ত বিজয় শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই হয়েছে।

⏳

৩. ক্ষণস্থায়ী জীবন ও সত্যের পথে অবিচলতা:

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কুরআনে নবীদের আগমনক্রম ও তাঁদের দাওয়াতী জীবনের উল্লেখ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের দুনিয়াবি জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং এই পৃথিবীতে প্রতিটি জাতিরই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সত্যের পথে অবিচল থাকাই নবীগণের জীবনকাহিনীর পরম উদ্দেশ্য।

পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।