- ৩১–৬০ তম ঐশী অনুশাসন
‘قُلْ’ (বলুন) — আলে ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদাহ ও আল-আনআম (৩১ থেকে ৬০ তম ঐশী অনুশাসন)
দ্বিতীয় পর্বে সূরা আলে ইমরান থেকে শুরু করে আন-নিসা ও আল-মায়িদাহ হয়ে সূরা আল-আনআমের সূচনালগ্ন পর্যন্ত ৩১ থেকে ৬০ নম্বর ঐশী অনুশাসন সংকলিত হয়েছে। দ্বীনের বিধিবিধান, ইনসাফ ও তাওহীদের চূড়ান্ত সাক্ষ্য এখানে প্রধান বিষয়।
📋 পর্ব-২-এর দ্রুত পাঠ সূচিপত্র (৩১–৬০)
মোট ৩০টি ঐশী নির্দেশনা
ক্রমিক
সূরা ও আয়াত
আরবি বাণী (قُلْ)
বাংলা অর্থ
৩১
قُلْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ وَإِ...
অনুবাদ: বল, ‘আমরা আল্লাহর উপর এবং আমাদের প্রতি ও ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁর বংশধরের প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ...
৩২
۞ كُلُّ ٱلطَّعَامِ كَانَ حِلًّۭا لِّبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَٰٓءِيلُ...
অনুবাদ: তাওরাত নাযিলের পূর্বে ইয়াকুব নিজের উপর যা হারাম করেছিল, তাছাড়া সকল খাদ্য বানী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। বল, ‘তো...
৩৩
قُلْ صَدَقَ ٱللَّهُ ۗ فَٱتَّبِعُوا۟ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًۭا وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُش...
অনুবাদ: বল, ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন, সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের অনুসরণ কর, সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নয়’।
৩৪
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَى...
অনুবাদ: বল, ‘হে কিতাবধারীগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে কেন অমান্য করছ? বস্তুতঃ তোমরা যা করছ, আল্লাহ তার সাক্ষী’।
৩৫
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لِمَ تَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ مَنْ ءَامَنَ تَبْغُونَهَا...
অনুবাদ: বল, হে কিতাবধারীগণ! যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে তাকে কেন আল্লাহর পথে বাধা দিচ্ছ, ওকে বক্র করার পথ খুঁজছ, অথচ তোমরাই...
৩৬
هَـٰٓأَنتُمْ أُو۟لَآءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِٱلْكِتَـٰبِ كُ...
অনুবাদ: অবশ্য তোমরাই সেই লোক যে, তোমরা তাদেরকে মহববত কর, কিন্তু তারা তোমাদের সাথে মহববত রাখে না, উপরন্তু তোমরা সকল কিত...
৩৭
ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنۢ بَعْدِ ٱلْغَمِّ أَمَنَةًۭ نُّعَاسًۭا يَغْشَىٰ طَآئِفَةًۭ مّ...
অনুবাদ: অতঃপর সেই দুঃখের পর তিনি তোমাদের ওপর প্রশান্তি—তন্দ্রা নাজিল করলেন, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করছিল; আর অন্য এ...
৩৮
ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنۢ بَعْدِ ٱلْغَمِّ أَمَنَةًۭ نُّعَاسًۭا يَغْشَىٰ طَآئِفَةًۭ مّ...
অনুবাদ: অতঃপর সেই দুঃখের পর তিনি তোমাদের ওপর প্রশান্তি—তন্দ্রা নাজিল করলেন, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করছিল; আর অন্য এ...
৩৯
أَوَلَمَّآ أَصَـٰبَتْكُم مُّصِيبَةٌۭ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَـٰذَا...
অনুবাদ: আর যখন তোমাদের ওপর একটি বিপদ (ওহুদের বিপর্যয়) এল, অথচ তোমরা তো (বদরে) এর দ্বিগুণ আঘাত হেনেছিলে; তখন তোমরা বললে...
৪০
ٱلَّذِينَ قَالُوا۟ لِإِخْوَٰنِهِمْ وَقَعَدُوا۟ لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا۟ ۗ قُلْ فَٱدْ...
অনুবাদ: যারা নিজেরা (যুদ্ধে না গিয়ে) বসে রইল এবং তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলল, ‘তারা যদি আমাদের কথা শুনত, তবে তারা নিহত হ...
৪১
ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ عَهِدَ إِلَيْنَآ أَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُولٍ حَتَّىٰ يَأْ...
অনুবাদ: যারা বলে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের অঙ্গীকার দিয়েছেন যে, আমরা কোনো রাসূলের প্রতি ঈমান আনব না—যতক্ষণ না সে আমাদের ক...
৪২
أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَعْلَمُ ٱللَّهُ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُم...
অনুবাদ: ওরা হলো তারা, যাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন। অতএব তুমি ওদের উপেক্ষা করো এবং ওদের উপদেশ দাও এবং...
৪৩
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوٓا۟ أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ و...
অনুবাদ: তুমি কি তাদের দেখোনি, যাদের বলা হয়েছিল, ‘তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো এবং সালাত কায়েম করো ও যাকাত দাও’? অতঃপর...
৪৪
أَيْنَمَا تَكُونُوا۟ يُدْرِككُّمُ ٱلْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِى بُرُوجٍۢ مُّشَيَّدَةٍۢ ۗ وَ...
অনুবাদ: তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই—যদিও তোমরা সুদৃঢ় সুউচ্চ দুর্গের (বুরুজ) ভেতরেও অবস্থান ক...
৪৫
وَيَسْتَفْتُونَكَ فِى ٱلنِّسَآءِ ۖ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَىٰ عَلَي...
অনুবাদ: আর তারা তোমার কাছে নারীদের বিষয়ে আইনি ফয়সালা (ফতোয়া) চাচ্ছে। বলো, ‘আল্লাহ তোমাদের তাদের বিষয়ে ফয়সালা দিচ্ছেন এ...
৪৬
يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِى ٱلْكَلَـٰلَةِ ۚ إِنِ ٱمْرُؤٌا۟ هَلَكَ لَيْسَ...
অনুবাদ: তারা তোমার কাছে আইনি ফয়সালা (ফতোয়া) চাচ্ছে। বলো, ‘আল্লাহ তোমাদের ‘কলালাহ’ (পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন মৃত) ব্যক্...
৪৭
يَسْـَٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمْ ۖ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَـٰتُ ۙ وَمَا عَلَّمْ...
অনুবাদ: লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে। বল, যাবতীয় ভাল ও পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল...
৪৮
لَّقَدْ كَفَرَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْمَسِيحُ ٱبْنُ مَرْيَمَ ۚ قُلْ فَم...
অনুবাদ: তারা কুফরী করেছে যারা বলে মাসীহ্ ইবনে মারইয়ামই আল্লাহ। বল, মাসীহ ইবনে মারইয়াম, আর তার মা এবং পৃথিবীতে যারা আছে...
৪৯
وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ وَٱلنَّصَـٰرَىٰ نَحْنُ أَبْنَـٰٓؤُا۟ ٱللَّهِ وَأَحِبَّـٰٓؤُهُۥ ۚ قُلْ...
অনুবাদ: ইয়াহূদী ও নাসারারা বলে, আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়পাত্র। বল, তাহলে তোমাদের পাপের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে শা...
৫০
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ هَلْ تَنقِمُونَ مِنَّآ إِلَّآ أَنْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَ...
অনুবাদ: বল, ‘ওহে কিতাবধারী সম্প্রদায়! তোমরা এ ছাড়া অন্য কারণে আমাদের প্রতি রাগান্বিত নও যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমা...
৫১
قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّۢ مِّن ذَٰلِكَ مَثُوبَةً عِندَ ٱللَّهِ ۚ مَن لَّعَنَهُ ٱللَّ...
অনুবাদ: বল, আমি তোমাদেরকে কি এর চেয়ে খারাপ কিছুর সংবাদ দেব যা আল্লাহর নিকট প্রতিদান হিসেবে আছে? (আর তা হল) যাকে আল্লাহ...
৫২
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا۟ ٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْ...
অনুবাদ: বল, হে গ্রন্থধারীগণ! তোমরা তাওরাত, ইঞ্জিল আর তোমাদের রবের নিকট হতে যা তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তার বিধি-বিধান...
৫৩
قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّۭا وَلَا نَفْعًۭا ۚ وَٱل...
অনুবাদ: বল, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কি এমন কিছুর ‘ইবাদাত করছ যাদের না আছে কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা, আর না আছে উপকার করার।...
৫৪
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لَا تَغْلُوا۟ فِى دِينِكُمْ غَيْرَ ٱلْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوٓ...
অনুবাদ: বল, হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীন সম্বন্ধে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না, আর সেই সম্প্রদায়ের খেয়াল খুশির অন...
৫৫
قُل لَّا يَسْتَوِى ٱلْخَبِيثُ وَٱلطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ ٱلْخَبِيثِ ۚ فَٱتَّق...
অনুবাদ: বল, অপবিত্র আর পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্র বস্তুর প্রাচুর্য তোমাকে আকৃষ্ট করে। কাজেই হে জ্ঞানী সম্প্রদায়! তোম...
৫৬
قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ ٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُكَذِّبِينَ ١١
অনুবাদ: বল, দুনিয়ায় পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণাম কী দাঁড়িয়েছিল।
৫৭
قُل لِّمَن مَّا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ ٱلر...
অনুবাদ: বল, আসমানে আর যমীনে যা আছে তা কার? বল, আল্লাহরই। দয়া করা তিনি তাঁর জন্য কর্তব্য স্থির করে নিয়েছেন, তিনি কিয়ামা...
৫৮
قُل لِّمَن مَّا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ ٱلر...
অনুবাদ: বল, আসমানে আর যমীনে যা আছে তা কার? বল, আল্লাহরই। দয়া করা তিনি তাঁর জন্য কর্তব্য স্থির করে নিয়েছেন, তিনি কিয়ামা...
৫৯
قُلْ أَغَيْرَ ٱللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّۭا فَاطِرِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِ...
অনুবাদ: বল, আমি কি আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে অভিভাবক বানিয়ে নেব, অথচ তিনিই খাওয়ান, তাঁকে খাওয়া...
৬০
قُلْ أَغَيْرَ ٱللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّۭا فَاطِرِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِ...
অনুবাদ: বল, আমি কি আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে অভিভাবক বানিয়ে নেব, অথচ তিনিই খাওয়ান, তাঁকে খাওয়া...
৩১
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْمَـٰعِيلَ وَإِسْحَـٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطِ وَمَآ أُوتِىَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُۥ مُسْلِمُونَ ٨٤
অনুবাদ: “বল, ‘আমরা আল্লাহর উপর এবং আমাদের প্রতি ও ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁর বংশধরের প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে এবং মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নাবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা কিছু দেয়া হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছি; আমরা তাঁদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পিত।’”
📌 তাদাব্বুর:
সমস্ত নবী ও ঐশী গ্রন্থের প্রতি সার্বজনীন বিশ্বাস—নবীগণের মধ্যে কোনো প্রভেদ না করা ইসলামের অনন্য সৌন্দর্য।
৩২
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
۞ كُلُّ ٱلطَّعَامِ كَانَ حِلًّۭا لِّبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَٰٓءِيلُ عَلَىٰ نَفْسِهِۦ مِن قَبْلِ أَن تُنَزَّلَ ٱلتَّوْرَىٰةُ ۗ قُلْ فَأْتُوا۟ بِٱلتَّوْرَىٰةِ فَٱتْلُوهَآ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ٩٣
অনুবাদ: “তাওরাত নাযিলের পূর্বে ইয়াকুব নিজের উপর যা হারাম করেছিল, তাছাড়া সকল খাদ্য বানী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। বল, ‘তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো, এবং তা পাঠ কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।”
📌 তাদাব্বুর:
ধর্মতাত্ত্বিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মূল কিতাবের দলিল প্রদর্শনের বলিষ্ঠ চ্যালেঞ্জ।
৩৩
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ صَدَقَ ٱللَّهُ ۗ فَٱتَّبِعُوا۟ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًۭا وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ٩٥
অনুবাদ: “বল, ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন, সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের অনুসরণ কর, সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নয়’।”
📌 তাদাব্বুর:
সত্যের চূড়ান্ত জয়গান—আল্লাহর বাণীর সত্যতা স্বীকার এবং ইব্রাহীমের আপসহীন একনিষ্ঠতার অনুগমন।
৩৪
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِـَٔايَـٰتِ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا تَعْمَلُونَ ٩٨
অনুবাদ: “বল, ‘হে কিতাবধারীগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে কেন অমান্য করছ? বস্তুতঃ তোমরা যা করছ, আল্লাহ তার সাক্ষী’।”
📌 তাদাব্বুর:
সত্যকে জানার পরও জেনে-শুনে অস্বীকার করার বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি ও আল্লাহর নজরদারির স্মরণ।
৩৫
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لِمَ تَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ مَنْ ءَامَنَ تَبْغُونَهَا عِوَجًۭا وَأَنتُمْ شُهَدَآءُ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٩٩
অনুবাদ: “বল, হে কিতাবধারীগণ! যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে তাকে কেন আল্লাহর পথে বাধা দিচ্ছ, ওকে বক্র করার পথ খুঁজছ, অথচ তোমরাই (এ পথের সত্যতার) সাক্ষী? এমতাবস্থায় আল্লাহ তোমাদের কার্যাবলী সম্বন্ধে বে-খবর নন।”
📌 তাদাব্বুর:
সত্যের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস—জেনে-শুনে অন্যকে বিভ্রান্ত করা দ্বিগুণ অপরাধ।
৩৬
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
هَـٰٓأَنتُمْ أُو۟لَآءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِٱلْكِتَـٰبِ كُلِّهِۦ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوْا۟ عَضُّوا۟ عَلَيْكُمُ ٱلْأَنَامِلَ مِنَ ٱلْغَيْظِ ۚ قُلْ مُوتُوا۟ بِغَيْظِكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ١١٩
অনুবাদ: “অবশ্য তোমরাই সেই লোক যে, তোমরা তাদেরকে মহববত কর, কিন্তু তারা তোমাদের সাথে মহববত রাখে না, উপরন্তু তোমরা সকল কিতাবের প্রতিও বিশ্বাস রাখ এবং যখন তারা তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তখন বলে যে, ‘আমরাও ঈমান এনেছি’ এবং যখন তারা একান্তে মিলিত হয় তখন তোমাদের প্রতি গোস্বায় নিজেদের আঙ্গুলের মাথা কামড়াতে থাকে। তাদেরকে বল, ‘তোমরা নিজেদের গোস্বায় মরতে থাক’। বস্তুতঃ অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা খুব ভালভাবেই জানেন।”
📌 তাদাব্বুর:
বিদ্বেষী ও কপটদের অন্তরের ক্ষোভের বিপরীতে মুমিনের অবিচলতা ও আল্লাহর সর্বজ্ঞাত ক্ষমতার ওপর অটল বিশ্বাস।
৩৭
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنۢ بَعْدِ ٱلْغَمِّ أَمَنَةًۭ نُّعَاسًۭا يَغْشَىٰ طَآئِفَةًۭ مِّنكُمْ ۖ وَطَآئِفَةٌۭ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِٱللَّهِ غَيْرَ ٱلْحَقِّ ظَنَّ ٱلْجَـٰهِلِيَّةِ ۖ يَقُولُونَ هَل لَّنَا مِنَ ٱلْأَمْرِ مِن شَىْءٍۢ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْأَمْرَ كُلَّهُۥ لِلَّهِ ۗ يُخْفُونَ فِىٓ أَنفُسِهِم مَّا لَا يُبْدُونَ لَكَ ۖ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ ٱلْأَمْرِ شَىْءٌۭ مَّا قُتِلْنَا هَـٰهُنَا ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِى بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ ٱلَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقَتْلُ إِلَىٰ مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِىَ ٱللَّهُ مَا فِى صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ١٥٤
অনুবাদ: “অতঃপর সেই দুঃখের পর তিনি তোমাদের ওপর প্রশান্তি—তন্দ্রা নাজিল করলেন, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করছিল; আর অন্য একদল—যাদের নিজেদের প্রাণই তাদের চিন্তিত করে তুলেছিল—তারা আল্লাহর প্রতি অন্যায়ভাবে প্রাক-ইসলামী যুগের (জাহেলিয়াতের) মতো মনগড়া ধারণা করছিল। তারা বলছিল, ‘এ বিষয়ে আমাদের কি কোনো এখতিয়ার আছে?’ বলো, ‘নিশ্চয়ই সব সিদ্ধান্ত আল্লাহরই’। তারা তাদের মনে এমন কিছু গোপন রাখে যা তোমার কাছে প্রকাশ করে না। তারা বলে, ‘যদি এ বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার থাকত, তবে আমরা এখানে নিহত হতাম না’। বলো, ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরবাড়িতেও থাকতে, তবুও যাদের ভাগ্যে নিহত হওয়া লেখা ছিল, তারা অবশ্যই তাদের শয়ানক্ষেত্রের দিকে বের হয়ে আসত’। আর এটি এজন্য যে, তোমাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করতে পারেন এবং তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা পরিশোধন করতে পারেন। আর আল্লাহ অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।”
📌 তাদাব্বুর:
জীবনের প্রতিটি ফয়সালা ও তাকদীরের অমোঘ বিধান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে; সংকটে অন্তরের খাঁটিত্ব যাচাই হওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
৩৮
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنۢ بَعْدِ ٱلْغَمِّ أَمَنَةًۭ نُّعَاسًۭا يَغْشَىٰ طَآئِفَةًۭ مِّنكُمْ ۖ وَطَآئِفَةٌۭ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِٱللَّهِ غَيْرَ ٱلْحَقِّ ظَنَّ ٱلْجَـٰهِلِيَّةِ ۖ يَقُولُونَ هَل لَّنَا مِنَ ٱلْأَمْرِ مِن شَىْءٍۢ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْأَمْرَ كُلَّهُۥ لِلَّهِ ۗ يُخْفُونَ فِىٓ أَنفُسِهِم مَّا لَا يُبْدُونَ لَكَ ۖ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ ٱلْأَمْرِ شَىْءٌۭ مَّا قُتِلْنَا هَـٰهُنَا ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِى بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ ٱلَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقَتْلُ إِلَىٰ مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِىَ ٱللَّهُ مَا فِى صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ١٥٤
অনুবাদ: “অতঃপর সেই দুঃখের পর তিনি তোমাদের ওপর প্রশান্তি—তন্দ্রা নাজিল করলেন, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করছিল; আর অন্য একদল—যাদের নিজেদের প্রাণই তাদের চিন্তিত করে তুলেছিল—তারা আল্লাহর প্রতি অন্যায়ভাবে প্রাক-ইসলামী যুগের (জাহেলিয়াতের) মতো মনগড়া ধারণা করছিল। তারা বলছিল, ‘এ বিষয়ে আমাদের কি কোনো এখতিয়ার আছে?’ বলো, ‘নিশ্চয়ই সব সিদ্ধান্ত আল্লাহরই’। তারা তাদের মনে এমন কিছু গোপন রাখে যা তোমার কাছে প্রকাশ করে না। তারা বলে, ‘যদি এ বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার থাকত, তবে আমরা এখানে নিহত হতাম না’। বলো, ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরবাড়িতেও থাকতে, তবুও যাদের ভাগ্যে নিহত হওয়া লেখা ছিল, তারা অবশ্যই তাদের শয়ানক্ষেত্রের দিকে বের হয়ে আসত’। আর এটি এজন্য যে, তোমাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করতে পারেন এবং তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা পরিশোধন করতে পারেন। আর আল্লাহ অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।”
📌 তাদাব্বুর:
জীবনের প্রতিটি ফয়সালা ও তাকদীরের অমোঘ বিধান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে; সংকটে অন্তরের খাঁটিত্ব যাচাই হওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
৩৯
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
أَوَلَمَّآ أَصَـٰبَتْكُم مُّصِيبَةٌۭ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَـٰذَا ۖ قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنفُسِكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ١٦٥
অনুবাদ: “আর যখন তোমাদের ওপর একটি বিপদ (ওহুদের বিপর্যয়) এল, অথচ তোমরা তো (বদরে) এর দ্বিগুণ আঘাত হেনেছিলে; তখন তোমরা বললে, ‘এটি কোথা থেকে এল?’ বলো, ‘এটি তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকেই (নিজেদের ভুলের কারণে)’। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।”
📌 তাদাব্বুর:
বিপর্যয়ের কারণ বাইরে না খুঁজে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি ও পদস্খলন চিহ্নিত করাই আত্মসংশোধনের প্রথম ধাপ।
৪০
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
ٱلَّذِينَ قَالُوا۟ لِإِخْوَٰنِهِمْ وَقَعَدُوا۟ لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا۟ ۗ قُلْ فَٱدْرَءُوا۟ عَنْ أَنفُسِكُمُ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ١٦٨
অনুবাদ: “যারা নিজেরা (যুদ্ধে না গিয়ে) বসে রইল এবং তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলল, ‘তারা যদি আমাদের কথা শুনত, তবে তারা নিহত হতো না’। বলো, ‘তবে তোমরা তোমাদের নিজেদের ওপর থেকে মৃত্যুকে প্রতিহত করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।”
📌 তাদাব্বুর:
কাপুরুষতা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে না; আল্লাহর নির্ধারিত মৃত্যু কেউ আটকাতে পারে না।
৪১
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ عَهِدَ إِلَيْنَآ أَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُولٍ حَتَّىٰ يَأْتِيَنَا بِقُرْبَانٍۢ تَأْكُلُهُ ٱلنَّارُ ۗ قُلْ قَدْ جَآءَكُمْ رُسُلٌۭ مِّن قَبْلِى بِٱلْبَيِّنَـٰتِ وَبِٱلَّذِى قُلْتُمْ فَلِمَ قَتَلْتُمُوهُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ ١٨٣
অনুবাদ: “যারা বলে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের অঙ্গীকার দিয়েছেন যে, আমরা কোনো রাসূলের প্রতি ঈমান আনব না—যতক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন কুরবানী নিয়ে আসে, যা আগুন গ্রাস (দহন) করবে’। বলো, ‘আমার পূর্বেও বহু রাসূল স্পষ্ট প্রমাণসমূহ এবং তোমরা যা বললে তা-ই নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিলেন; তবে তোমরা কেন তাদের হত্যা করেছিলে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’”
📌 তাদাব্বুর:
অবাস্তব শর্তারোপ সত্য প্রত্যাখ্যানের অজুহাত মাত্র; আন্তরিক সততাই সত্যকে গ্রহণের একমাত্র মাপকাঠি।
৪২
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَعْلَمُ ٱللَّهُ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِىٓ أَنفُسِهِمْ قَوْلًۢا بَلِيغًۭا ٦٣
অনুবাদ: “ওরা হলো তারা, যাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন। অতএব তুমি ওদের উপেক্ষা করো এবং ওদের উপদেশ দাও এবং ওদের নিজেদের বিষয়ে এমন কথা বলো—যা অত্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী (ভেদী)।”
📌 তাদাব্বুর:
হৃদয়স্পর্শী, স্পষ্ট ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে মানুষের বিবেকে নাড়া দিয়ে সংশোধনের দাওয়াত পৌঁছানো।
৪৩
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوٓا۟ أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌۭ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ ٱلنَّاسَ كَخَشْيَةِ ٱللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةًۭ ۚ وَقَالُوا۟ رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا ٱلْقِتَالَ لَوْلَآ أَخَّرْتَنَآ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ قَرِيبٍۢ ۗ قُلْ مَتَـٰعُ ٱلدُّنْيَا قَلِيلٌۭ وَٱلْـَٔاخِرَةُ خَيْرٌۭ لِّمَنِ ٱتَّقَىٰ وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا ٧٧
অনুবাদ: “তুমি কি তাদের দেখোনি, যাদের বলা হয়েছিল, ‘তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো এবং সালাত কায়েম করো ও যাকাত দাও’? অতঃপর যখন তাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ (লিখিত) করা হলো, তখন তাদের একদল মানুষকে এমন ভয় করতে লাগল যেমন আল্লাহকে ভয় করা হয় কিংবা তার চেয়েও তীব্র ভয়ে! আর তারা বলল, ‘হে আমাদের রব! আপনি কেন আমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করলেন? কেন আমাদের আরও কিছু দিনের (নিকটবর্তী মেয়াদের) জন্য অবকাশ দিলেন না?’ বলো, ‘পার্থিব ভোগসামগ্রী তো অত্যন্ত সামান্য, আর যে তাকওয়া অবলম্বন করেছে তার জন্য আখেরাতই সর্বোত্তম। আর তোমাদের প্রতি সুতা পরিমাণ (সামান্যতম) জুলুম করা হবে না’।”
📌 তাদাব্বুর:
পার্থিব স্বার্থ বনাম চিরস্থায়ী পরকাল—তাকওয়ার জীবনই সর্বোৎকৃষ্ট প্রাপ্তি।
৪৪
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
أَيْنَمَا تَكُونُوا۟ يُدْرِككُّمُ ٱلْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِى بُرُوجٍۢ مُّشَيَّدَةٍۢ ۗ وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌۭ يَقُولُوا۟ هَـٰذِهِۦ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۭ يَقُولُوا۟ هَـٰذِهِۦ مِنْ عِندِكَ ۚ قُلْ كُلٌّۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ ۖ فَمَالِ هَـٰٓؤُلَآءِ ٱلْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًۭا ٧٨
অনুবাদ: “তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই—যদিও তোমরা সুদৃঢ় সুউচ্চ দুর্গের (বুরুজ) ভেতরেও অবস্থান করো। আর যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছে, তবে তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’; আর যদি তাদের কোনো অনিষ্ট পৌঁছায়, তবে তারা বলে, ‘এটি তোমার পক্ষ থেকে (তোমার কারণে)’। বলো, ‘সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে’। অতএব এই সম্প্রদায়ের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতেই চায় না?”
📌 তাদাব্বুর:
সুদৃঢ় দুর্গে লুকিয়েও মৃত্যুকে এড়ানো অসম্ভব; জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি ও সৃষ্টিজগতের কার্যকারণ আল্লাহরই সৃষ্টিবিধানের অধীন।
৪৫
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
وَيَسْتَفْتُونَكَ فِى ٱلنِّسَآءِ ۖ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فِى ٱلْكِتَـٰبِ فِى يَتَـٰمَى ٱلنِّسَآءِ ٱلَّـٰتِى لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَن تَنكِحُوهُنَّ وَٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلْوِلْدَٰنِ وَأَن تَقُومُوا۟ لِلْيَتَـٰمَىٰ بِٱلْقِسْطِ ۚ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِهِۦ عَلِيمًۭا ١٢٧
অনুবাদ: “আর তারা তোমার কাছে নারীদের বিষয়ে আইনি ফয়সালা (ফতোয়া) চাচ্ছে। বলো, ‘আল্লাহ তোমাদের তাদের বিষয়ে ফয়সালা দিচ্ছেন এবং কিতাবের মধ্যে তোমাদের কাছে যা পাঠ করা হয় তা-ও—সেই এতিম নারীদের বিষয়ে যাদের তোমরা তাদের জন্য লিখিত সুনির্দিষ্ট অংশ (মহর/উত্তরাধিকার) প্রদান করো না, অথচ তোমরা তাদের বিয়ে করতে আকাঙ্ক্ষা করো এবং অসহায় শিশুদের বিষয়েও এবং এতিমদের প্রতি তোমাদের ইনসাফের সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকার বিষয়েও’। আর তোমরা ভালো যা কিছু করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।”
📌 তাদাব্বুর:
নারী ও এতিম মেয়েদের অধিকার রক্ষা—আল্লাহর শরীয়তে তাদের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত।
৪৬
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِى ٱلْكَلَـٰلَةِ ۚ إِنِ ٱمْرُؤٌا۟ هَلَكَ لَيْسَ لَهُۥ وَلَدٌۭ وَلَهُۥٓ أُخْتٌۭ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ۚ وَهُوَ يَرِثُهَآ إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌۭ ۚ فَإِن كَانَتَا ٱثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا ٱلثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ ۚ وَإِن كَانُوٓا۟ إِخْوَةًۭ رِّجَالًۭا وَنِسَآءًۭ فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ ٱلْأُنثَيَيْنِ ۗ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّوا۟ ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۢ ١٧٦
অনুবাদ: “তারা তোমার কাছে আইনি ফয়সালা (ফতোয়া) চাচ্ছে। বলো, ‘আল্লাহ তোমাদের ‘কলালাহ’ (পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন মৃত) ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্বন্ধে ফয়সালা দিচ্ছেন—যদি কোনো পুরুষ মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার এক বোন থাকে, তবে তার জন্য থাকবে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক; আর সে (পুরুষ) তার বোনের উত্তরাধিকারী হবে—যদি বোনের কোনো সন্তান না থাকে। অতঃপর যদি দুই বোন থাকে, তবে তাদের জন্য থাকবে পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ। আর যদি তারা ভাই-বোন—বহু পুরুষ ও নারী হয়, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হবে’। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা করছেন—যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।”
📌 তাদাব্বুর:
উত্তরাধিকার আইনের নিখুঁত বিধান—আল্লাহর ফায়সালাই বৈষম্যহীন ও ন্যায়সঙ্গত।
৪৭
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
يَسْـَٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمْ ۖ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَـٰتُ ۙ وَمَا عَلَّمْتُم مِّنَ ٱلْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ ٱللَّهُ ۖ فَكُلُوا۟ مِمَّآ أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَٱذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ عَلَيْهِ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ٤
অনুবাদ: “লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে। বল, যাবতীয় ভাল ও পবিত্র বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে, আর শিকারী পশু-পক্ষী- যাদেরকে তোমরা শিক্ষা দিয়েছ যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন- সুতরাং তারা যা তোমাদের জন্য ধরে রাখে তা তোমরা ভক্ষণ করবে আর তাতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে, আর আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ হিসাব গ্রহণে ত্বরিৎগতি।”
📌 তাদাব্বুর:
খাদ্য ও উপার্জনে পবিত্রতার নীতি—ইসলামে যা কিছু মানবজীবনের জন্য কল্যাণকর ও পবিত্র, তাই হালাল।
৪৮
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
لَّقَدْ كَفَرَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْمَسِيحُ ٱبْنُ مَرْيَمَ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ مِنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا إِنْ أَرَادَ أَن يُهْلِكَ ٱلْمَسِيحَ ٱبْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُۥ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًۭا ۗ وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ١٧
অনুবাদ: “তারা কুফরী করেছে যারা বলে মাসীহ্ ইবনে মারইয়ামই আল্লাহ। বল, মাসীহ ইবনে মারইয়াম, আর তার মা এবং পৃথিবীতে যারা আছে সকলকে ধ্বংস করতে চাইলে আল্লাহর বিরুদ্ধে কারো এতটুকু ক্ষমতা আছে কি? আসমানসমূহে আর পৃথিবীতে ও এদের মধ্যে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই মালিকানাধীন। তিনি যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন। আল্লাহ্ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।”
📌 তাদাব্বুর:
যিশুখ্রিষ্টের ঈশ্বরত্ব দাবির অকাট্য খণ্ডন—তিনি আল্লাহরই বান্দা ও রাসুল, কোনোভাবেই স্রষ্টার অংশ নন।
৪৯
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ وَٱلنَّصَـٰرَىٰ نَحْنُ أَبْنَـٰٓؤُا۟ ٱللَّهِ وَأَحِبَّـٰٓؤُهُۥ ۚ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُم بِذُنُوبِكُم ۖ بَلْ أَنتُم بَشَرٌۭ مِّمَّنْ خَلَقَ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ ۚ وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ وَإِلَيْهِ ٱلْمَصِيرُ ١٨
অনুবাদ: “ইয়াহূদী ও নাসারারা বলে, আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়পাত্র। বল, তাহলে তোমাদের পাপের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দেন কেন? বরং তিনি যাদের সৃষ্টি করেছেন তোমরা তাদের অন্তর্গত মানুষ, তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেন, আকাশসমূহ ও পৃথিবী আর এদের মধ্যে যা আছে সবকিছুর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই জন্য, আর প্রত্যাবর্তন তাঁরই পানে।”
📌 তাদাব্বুর:
‘আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়পাত্র’ শীর্ষক বর্ণবাদী অহংকারের খণ্ডন—সবার বিচার একমাত্র তাকওয়া ও আমলের ভিত্তিতে।
৫০
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ هَلْ تَنقِمُونَ مِنَّآ إِلَّآ أَنْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلُ وَأَنَّ أَكْثَرَكُمْ فَـٰسِقُونَ ٥٩
অনুবাদ: “বল, ‘ওহে কিতাবধারী সম্প্রদায়! তোমরা এ ছাড়া অন্য কারণে আমাদের প্রতি রাগান্বিত নও যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি আর আমাদের পূর্বে যা নাযিল হয়েছিল তার প্রতি ঈমান এনেছি, তোমাদের অধিকাংশই তো হচ্ছে ফাসিক।’”
📌 তাদাব্বুর:
বিশ্বাসী মুমিনদের ওপর ধর্মীয় বিদ্বেষের অযৌক্তিকতা উন্মোচন।
৫১
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّۢ مِّن ذَٰلِكَ مَثُوبَةً عِندَ ٱللَّهِ ۚ مَن لَّعَنَهُ ٱللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ ٱلْقِرَدَةَ وَٱلْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ ٱلطَّـٰغُوتَ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ شَرٌّۭ مَّكَانًۭا وَأَضَلُّ عَن سَوَآءِ ٱلسَّبِيلِ ٦٠
অনুবাদ: “বল, আমি তোমাদেরকে কি এর চেয়ে খারাপ কিছুর সংবাদ দেব যা আল্লাহর নিকট প্রতিদান হিসেবে আছে? (আর তা হল) যাকে আল্লাহ লা‘নাত করেছেন, যার উপর তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে তিনি বানর ও শুকরে পরিণত করেছেন আর যারা তাগুতের ‘ইবাদাত করেছে তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানের লোক এবং সরল সত্য পথ হতে সবচেয়ে বিচ্যুত।”
📌 তাদাব্বুর:
অহংকারী অবাধ্যদের অতীত অভিশপ্ত পরিণতির ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
৫২
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا۟ ٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْإِنجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًۭا مِّنْهُم مَّآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَـٰنًۭا وَكُفْرًۭا ۖ فَلَا تَأْسَ عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ ٦٨
অনুবাদ: “বল, হে গ্রন্থধারীগণ! তোমরা তাওরাত, ইঞ্জিল আর তোমাদের রবের নিকট হতে যা তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তার বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমরা কোন ভিত্তির উপরই দন্ডায়মান নও। তোমার রবের নিকট হতে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা তাদের অনেকের সীমালঙ্ঘন আর কুফরী অবশ্য অবশ্যই বৃদ্ধি করবে। কাজেই কাফির সম্প্রদায়ের জন্য তুমি আফসোস করো না।”
📌 তাদাব্বুর:
ঐশী কিতাবের প্রকৃত অনুসরণ ছাড়া ধর্মীয় দাবির কোনো মূল্য নেই।
৫৩
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّۭا وَلَا نَفْعًۭا ۚ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ٧٦
অনুবাদ: “বল, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কি এমন কিছুর ‘ইবাদাত করছ যাদের না আছে কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা, আর না আছে উপকার করার। আর আল্লাহ তিনি হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
📌 তাদাব্বুর:
শক্তিহীন ও ক্ষমতাহীন কোনো সৃষ্টির উপাসনা করার প্রকাশ্য মূর্খতা খণ্ডন।
৫৪
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ يَـٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَـٰبِ لَا تَغْلُوا۟ فِى دِينِكُمْ غَيْرَ ٱلْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوٓا۟ أَهْوَآءَ قَوْمٍۢ قَدْ ضَلُّوا۟ مِن قَبْلُ وَأَضَلُّوا۟ كَثِيرًۭا وَضَلُّوا۟ عَن سَوَآءِ ٱلسَّبِيلِ ٧٧
অনুবাদ: “বল, হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীন সম্বন্ধে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না, আর সেই সম্প্রদায়ের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না যারা ইতোপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে আর সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।”
📌 তাদাব্বুর:
দ্বীনের বিষয়ে চরমপন্থা ও অতিরঞ্জন বর্জনের মৌলিক ঐশী নির্দেশনা।
৫৫
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُل لَّا يَسْتَوِى ٱلْخَبِيثُ وَٱلطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ ٱلْخَبِيثِ ۚ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ يَـٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَـٰبِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ١٠٠
অনুবাদ: “বল, অপবিত্র আর পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্র বস্তুর প্রাচুর্য তোমাকে আকৃষ্ট করে। কাজেই হে জ্ঞানী সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”
📌 তাদাব্বুর:
সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি নয়; পবিত্রতা ও হালালের মূল্য যেকোনো অপবিত্র প্রাচুর্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
৫৬
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ ثُمَّ ٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَـٰقِبَةُ ٱلْمُكَذِّبِينَ ١١
অনুবাদ: “বল, দুনিয়ায় পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণাম কী দাঁড়িয়েছিল।”
📌 তাদাব্বুর:
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের পাঠ—পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পতন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান।
৫৭
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُل لِّمَن مَّا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ ٱلرَّحْمَةَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۚ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ١٢
অনুবাদ: “বল, আসমানে আর যমীনে যা আছে তা কার? বল, আল্লাহরই। দয়া করা তিনি তাঁর জন্য কর্তব্য স্থির করে নিয়েছেন, তিনি কিয়ামাত দিবসে তোমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে তারা ঈমান আনবে না।”
📌 তাদাব্বুর:
মহাজাগতিক সার্বভৌমত্বের মূল প্রশ্ন—সৃষ্টির মালিকানা নিয়ে চিন্তার উদ্রেক।
৫৮
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُل لِّمَن مَّا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ ٱلرَّحْمَةَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَـٰمَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۚ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ١٢
অনুবাদ: “বল, আসমানে আর যমীনে যা আছে তা কার? বল, আল্লাহরই। দয়া করা তিনি তাঁর জন্য কর্তব্য স্থির করে নিয়েছেন, তিনি কিয়ামাত দিবসে তোমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে তারা ঈমান আনবে না।”
📌 তাদাব্বুর:
মহাজাগতিক সার্বভৌমত্বের মূল প্রশ্ন—সৃষ্টির মালিকানা নিয়ে চিন্তার উদ্রেক।
৫৯
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ أَغَيْرَ ٱللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّۭا فَاطِرِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ ۗ قُلْ إِنِّىٓ أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ ۖ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ١٤
অনুবাদ: “বল, আমি কি আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে অভিভাবক বানিয়ে নেব, অথচ তিনিই খাওয়ান, তাঁকে খাওয়ানো হয় না, বল আমাকে আদেশ করা হয়েছে আমি যেন আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম হই, আর তুমি কিছুতেই মুশরিকদের মধ্যে শামিল হবে না।”
📌 তাদাব্বুর:
একক অভিভাবকত্ব—যিনি সবাইকে আহার দেন কিন্তু নিজে কারও আহারের মুখাপেক্ষী নন।
৬০
ঐশী নির্দেশনা (قُلْ)
قُلْ أَغَيْرَ ٱللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّۭا فَاطِرِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ ۗ قُلْ إِنِّىٓ أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ ۖ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ١٤
অনুবাদ: “বল, আমি কি আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে অভিভাবক বানিয়ে নেব, অথচ তিনিই খাওয়ান, তাঁকে খাওয়ানো হয় না, বল আমাকে আদেশ করা হয়েছে আমি যেন আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম হই, আর তুমি কিছুতেই মুশরিকদের মধ্যে শামিল হবে না।”
📌 তাদাব্বুর:
একক অভিভাবকত্ব—যিনি সবাইকে আহার দেন কিন্তু নিজে কারও আহারের মুখাপেক্ষী নন।
✨
পর্ব-২ এর সমাপ্তি ও পর্যালোচনা
৩১ থেকে ৬০ নম্বর বাণীতে সামাজিক সুবিচার, আহলে কিতাবদের বিভ্রান্তির অপনোদন এবং এক আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ঘোষণা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পরবর্তী পর্বে কুরআনের অবশিষ্ট ‘ক্বুল’ বাণীসমূহ ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

