"যা-লিকা" (ذَٰلِكَ)শব্দের অর্থএটানাকিওইটাবাসেটা , কোনটা?*
এই প্রশ্নটা সামনে রেখে উত্তর খুঁজতে আমাদেরকে সেটার জন্য পুরো কুরআনের প্রতিটি যা-লিকা (ذَٰلِكَ) আলাদা আলাদা করে বিশ্লেষণ করা দরকার। সংখ্যা অনেক (২০০+ এর মতো), তাই একবারে সব দিলে পোস্ট অনেক ভারী ও অগোছালো হয়ে যাবে। বরং আমরা এটাকে প্যাটার্নভিত্তিকভাবে ধরলে কুরআনের ভেতরের সামঞ্জস্য (৪:৮২ অনুযায়ী) খুব পরিষ্কার হয়ে যাবে - ইন শা আল্লাহ। এখানে প্রসঙ্গভিত্তিক যা-লিকা (ذَٰلِكَ) এর ৫টি মূল ব্যবহার দেখানো হলো। প্রতিটায় উদাহরণসহ - যাতে আপনারা নিজেই বাকিগুলো বিচার করতে পারবেন। ১. মর্যাদা বা উচ্চতা বোঝাতে (Elevation / Exaltation) উদাহরণ - ২:২ যা-লিকা (ذَٰلِكَ) আল-কিতা-বু (الْكِتَابُ) এখানে কিতাব সামনে, তবুও যা-লিকা (ذَٰلِكَ) কেন? বিশ্লেষণ: এখানে দূরত্ব বাস্তব না, মর্যাদাগত কিতাবকে “উচ্চ স্তরে” তুলে ধরা হচ্ছে অর্থ দাঁড়ায়: “সেই মহিমান্বিত কিতাব” ২. ফলাফল বা সিদ্ধান্ত নির্দেশ করতে (Conclusion / Result) উদাহরণ - ২:৫ উ-লা-ই-কা (أُولَٰئِكَ) আ-লা (عَلَىٰ) হু-দা (هُدًى) মিন (مِّن) রব্বি-হিম (رَّبِّهِمْ) ওয়া (وَ) উ-লা-ই-কা (أُولَٰئِكَ) হুমু (هُمُ) আল-মুফলি-হূন (الْمُفْلِحُونَ) (ধারণাগত উপসংহার বোঝাতে অনুরূপ গঠন - ৯:৭২) যা-লিকা (ذَٰلِكَ) হু-ওয়া (هُوَ) আল-ফাও-যু (الْفَوْزُ) আল-‘আ-যীম (الْعَظِيمُ) এখানে যা-লিকা (ذَٰلِكَ) কী? বিশ্লেষণ: আগের পুরো অবস্থার দিকে ইশারা করছে একটি উপসংহার টানছে অর্থ: “এটাই (উপরে যা বলা হলো) সেই মহান সফলতা” ৩. কারণ বা ব্যাখ্যা দেখাতে (Cause / Justification) উদাহরণ - ২:১০ ফি (فِي) কুলু-বি-হিম (قُلُوبِهِم) মা-রাদুন (مَّرَضٌ) যা-লিকা (ذَٰلِكَ) বি-আন্না-হুম (بِأَنَّهُمْ) কা-নু (كَانُوا) ইয়াক-যি-বূন (يَكْذِبُونَ) বিশ্লেষণ: যা-লিকা (ذَٰلِكَ) = পূর্বের অবস্থার দিকে ইঙ্গিত এরপর কারণ দেওয়া হচ্ছে অর্থ: “এটা এজন্য যে তারা মিথ্যা বলত” ৪. বিচ্ছিন্নতা বা দূরত্ব (Disapproval / Distance) উদাহরণ - ২:১৭১ ওয়া-মা-থা-লু (وَمَثَلُ) আল্লা-যী-না (الَّذِينَ) কা-ফা-রূ (كَفَرُوا) … যা-লিকা (ذَٰلِكَ) বি-আন্না-হুম (بِأَنَّهُمْ) কও-মুন (قَوْمٌ) লা (لَّا) ইয়াক-‘কি-লূন (يَعْقِلُونَ) বিশ্লেষণ: এখানে যা-লিকা (ذَٰلِكَ) মানসিক দূরত্ব বা অস্বীকৃতি বোঝায় যেন বলা হচ্ছে: “ওই অবস্থার কারণ…” অর্থ: “ওই অবস্থার কারণ তারা বোঝে না” ৫. চিহ্ন বা নিদর্শন নির্দেশ (Sign / Demonstration) উদাহরণ - ৩০:২১ ওয়া-মিন (وَمِنْ) আ-য়া-তি-হি (آيَاتِهِ) আন (أَنْ) খা-লা-ক্বা (خَلَقَ) লা-কুম (لَكُم) … ইন্না (إِنَّ) ফি (فِي) যা-লিকা (ذَٰلِكَ) লা-আ-য়া-তিন (لَآيَاتٍ) বিশ্লেষণ: যা-লিকা (ذَٰلِكَ) = পুরো ঘটনাটার দিকে ইঙ্গিত সেটাকে নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা অর্থ: “এর মধ্যে অবশ্যই নিদর্শন আছে” এখন মূল নীতিটা ধরলে যা-লিকা (ذَٰلِكَ) কখনোই শুধু “ওইটা” না। বরং তিন স্তরে কাজ করতে পারে: ১. শারীরিক দূরত্ব - ওইটা / সেটা ২. মানসিক বা ধারণাগত দূরত্ব - ওই অবস্থা / উক্ত বিষয় ৩. মর্যাদা বা উচ্চতা - সেই মহান / সেই বিশেষ কুরআনিক সামঞ্জস্য (৪:৮২ অনুযায়ী) যদি আপনারা সব যা-লিকা (ذَٰلِكَ) একইভাবে “ওইটা” অনুবাদ করেন তখন অসংগতি মনে হবে। কিন্তু প্রসঙ্গ অনুযায়ী ধরলে তখন দেখবেন একই শব্দ, কিন্তু সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার - কোথাও মর্যাদা কোথাও উপসংহার কোথাও কারণ কোথাও নিদর্শন ছোট একটা গভীর উদাহরণ লক্ষ্য করুন - ২:২ > যা-লিকা (ذَٰلِكَ) আল-কিতা-বু (الْكِتَابُ) (উচ্চতা) ২:১০ > যা-লিকা (ذَٰلِكَ) বি-আন্না-হুম (بِأَنَّهُمْ) … (কারণ) একই শব্দ, কিন্তু ভিন্ন কাজ কোনো বিরোধ নেই - বরং ভাষার শক্তি পরিশেষে এটাই বলা যায় যা-লিকা (ذَٰلِكَ) মানে শুধু “ওইটা” না বরং একটি বহুমাত্রিক ইশারা শব্দ, যা প্রসঙ্গ অনুযায়ী: উঁচু করে দূরে সরায় ব্যাখ্যা করে উপসংহার টানে * নিদর্শন দেখায়

