রাসূলের কাজ ছিল বার্তা পৌঁছে দেওয়া
কুরআন বারবার স্পষ্ট করেছে, রাসূলের দায়িত্ব ব্যক্তিগত উপস্থিতি নয়, বরং রিসালাহ পৌঁছানো।
“রাসূলের উপর দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।”
(২৪:৫৪)
অতএব রাসূলের আনুগত্য মানে তাঁর পৌঁছে দেওয়া বার্তার আনুগত্য।
রাসূলের আনুগত্য = আল্লাহর আনুগত্য
রাসূল নিজে কোনো স্বতন্ত্র কর্তৃত্ব নন।
"যে রাসূলের আনুগত্য করে, সে আল্লাহরই আনুগত্য করে।”
(৪:৮০)
এখানে ব্যক্তির নয়, যে কথা তিনি বহন করেছেন তার আনুগত্য বোঝানো হয়েছে।
রাসূল কিছু বলেননি নিজের পক্ষ থেকে
কুরআন রাসূলের বক্তব্যের উৎস নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
"তিনি নিজ খেয়াল থেকে কিছু বলেন না।
এটি তো ওহী, যা তাঁর কাছে ওহী করা হয়।”
(৫৩:৩-৪)
অতএব রাসূলের আনুগত্য মানে ওহীর আনুগত্য।
রাসূল চলে গেলেও বার্তা থেকে গেছে
কুরআন এই সম্ভাবনাও আগেই পরিষ্কার করেছে।
“মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র। তাঁর আগেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। তিনি মারা গেলে বা নিহত হলে তোমরা কি পিছনে ফিরে যাবে?”
(৩:১৪৪)
বার্তা ব্যক্তির জীবনের সঙ্গে শেষ হয়নি।
রাসূলের ডাকে সাড়া দেওয়া মানে কুরআনের ডাকে সাড়া দেওয়া
রাসূল এখন আর দেহগতভাবে ডাকেন না, কিন্তু তাঁর ডাকা বার্তা জীবিত।
“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও রাসূল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের জীবন দেয় - তখন সাড়া দাও।”
(৮:২৪)
এই জীবনদায়ী ডাক আজ কেবল কুরআনের মাধ্যমেই বিদ্যমান।
রাসূলের ওপর বিচারকত্ব কুরআনের মাধ্যমে
বিচারও ব্যক্তিগত নয়, বরং নাজিলকৃত কিতাবের মাধ্যমে।
“আমি তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি, যেন তুমি মানুষের মধ্যে বিচার করো আল্লাহ যা তোমাকে দেখিয়েছেন তার দ্বারা।”
(৪:১০৫)
আজ সেই বিচার-মানদণ্ড রয়ে গেছে কুরআন হিসেবে।
কুরআনিক সিদ্ধান্ত
রাসূল মারা গেছেন - এটি কুরআনিক সত্য
তাঁর রিসালাহ জীবিত - সেটিও কুরআনিক সত্য
রাসূলের আনুগত্য আজ সম্ভব কেবল কুরআনের আনুগত্যের মাধ্যমে
অতএব রাসূলের আনুগত্য মানে
কুরআনের আনুগত্য
ওহীর আনুগত্য
আল্লাহর আনুগত্য
এর বাইরে কোনো জীবিত মানব-মধ্যস্থতা কুরআন সমর্থন করে না।

