নিষিদ্ধ চার মাস

আলম এম.আলম এম.২৮ আগস্ট, ২০২৬

যারা কুরআন থেকে নিষিদ্ধ চার মাস খুঁজে পায়না তাদের জন্যই বিশেষভাবে এই পোষ্ট।

৯:৩৭ এ বলা হয়েছে, "নিশ্চয় পবিত্র মাস বিলম্বিত করা বা পিছিয়ে দেয়া (আন-নাসি النَّسِیۡٓءُ ) কুফরী বৃদ্ধি করে, এর দ্বারা কাফিররা পথভ্রষ্ট হয়, তারা এটি এক বছর হালাল করে এবং আরেক বছর হারাম করে..."

২:১৮৫ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শুধুমাত্র রমজান মাসের নামটি জানতে পারা যায়। রমজান শব্দের অর্থ গরম বা জ্বালা। গুরুত্ব হিসেবে যদি ধরেই নিলাম রোজা রেখে নিজেকে পুড়িয়ে পরিশুদ্ধ করে ইবাদতে মগ্ন থাকা। পরের মাসগুলোর নামগুলোর নামকরণ কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে সেটা দেখে নেয়া যাক।

শাওয়াল

অর্থ: উত্তোলন বা বহন করা।

নামের কার্যকারণ: উটের দুধ শুকিয়ে যেত এবং তাদের সন্তান বহন করার সময় ছিল।

জিলকদ

অর্থ:বিশ্রামের মাস

নামের কার্যকারণ: একটি পবিত্র মাস, যেখানে আরবরা যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থাকত।

জিলহজ্ব

অর্থ: হুজ্বের মাস

নামের কার্যকারণ: এই মাসে হজ পালিত হয় এবং ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়।

রমজান বলতে তীব্র গরম বা জ্বালার ব্যাপারটা আপাতত বাম পাশে সরিয়ে রাখি। শুধু শাওয়াল মাস নিয়ে একটু চিন্তা ভাবনা করে নিষিদ্ধ চার মাসের নাম খুঁজে পাওয়া যায় কিনা সেটা দেখা যাক। কোন কিছুর অর্থহীন নামকরণ করা হয় না। তেমনই রমজান মাসের পরের মাস শাওয়াল রাখা হয়েছে। এই নামকরণ করার বিশেষ কারণ হলো এ সময়ে উটের দুধ শুকিয়ে যেত এবং তাদের সন্তান বহন করার সময় হতো। এটি প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার। অন্য কোন সময়ে উটের দুধ শুকিয়েও যাবে না এবং তাদের সন্তান বহন করার সময়ও হবে না। প্রাকৃতিক এই নিয়মকে আমাদের বদলানোর কোন সুযোগ নেই। অর্থাৎ এই সময়টাতেই এই ঘটনা ঘটবে। বর্তমানে আমরা যেই হিজরী ক্যালেন্ডার ব্যবহার করছি সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাস কখনোই সুনির্দিষ্ট সময়ে থাকে না। সূর্য বছরের সাথে বিবেচনা করলে প্রতিবছর ১১ দিন করে পিছিয়ে যাচ্ছে আর এভাবেই সারা বছরজুড়ে এই মাসগুলো ঘুরছে। আল্লাহ এই উটের প্রতি দৃষ্টিপাত করা ও কিভাবে তার সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা উল্লেখ করা হয়েছে। রমজান মাসের বৈশিষ্ট্য হল গরম। ঠিক এই মাসের অব্যবহিত পরেই শাওয়াল অর্থাৎ উটের সন্তান বহনের (গর্ভধারণের) মাস।

Al-Ghashiyah 88:17

পবিত্র কুরআন — বাণী

أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى ٱلْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ

তবে কি তারা উটের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে?

শীত গরম বসন্ত সব ব্যাপারই সূর্যের সাথে নির্ভরশীল। দিন-রাত সমান হয় প্রতিবছর দু'দিনে, যা পরিচিত হয় বিষুব (Equinox) নামে। এই দুটি দিন হলো:

1. ২১ মার্চ বা ২০ মার্চ (বসন্ত বিষুব)

2. ২৩ সেপ্টেম্বর বা ২২ সেপ্টেম্বর (শরৎ বিষুব)

এই দিনগুলোতে পৃথিবীর উত্তর এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়ে থাকে।

Al-Baqarah 2:189

পবিত্র কুরআন — বাণী

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَهِلَّةِۖ قُلْ هِىَ مَوَٰقِيتُ لِلنَّاسِ وَٱلْحَجِّۗ وَلَيْسَ ٱلْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنِ ٱتَّقَىٰۗ وَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَٰبِهَاۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

তারা তোমাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘তা মানুষের ও হজ্জের জন্য সময় নির্ধারক’। আর ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা পেছন দিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করবে। কিন্তু ভাল কাজ হল, যে তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা গৃহসমূহে তার দরজা দিয়ে প্রবেশ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।

২:১৮৯ আয়াতে নতুন চাঁদের প্রসঙ্গে এসেছে। এখন আমরা যদি আগষ্ট থেকে সেপ্টেম্বরে যেই চাঁদ দেখতে পাবো সেটা হবে রমজান মাস। কেননা সেই সময়টা হবে নাতিশীতোষ্ণ অর্থাৎ না গরম, না শীত। এর পরের মাসগুলো অর্থাৎ শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ্ব মাস তো সহজেই চাঁদ দেখে নির্দিষ্ট করা যায়।

সুতরাং রমজান, শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ্ব মাস চারটিই হলো নিষিদ্ধ মাস।

সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, শুধুমাত্র হিজরী ক্যালেন্ডার ব্যবহার করলে কখনোই এই চারটি মাস সঠিক সময়ে থাকবে না। তাই আমাদেরকে Lunisolar Calendar ব্যবহার করতে হবে যা কিনা সূর্য ও চাঁদ এর সমন্বিত একটি ক্যালেন্ডার। Lunisolar Calendar নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

Lunisolar Calendar সংক্রান্ত দুটি আয়াত নিম্ন দিলাম:

Al-An'am 6:96

পবিত্র কুরআন — বাণী

فَالِقُ ٱلْإِصْبَاحِ وَجَعَلَ ٱلَّيْلَ سَكَنًا وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ حُسْبَانًاۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ ٱلْعَزِيزِ ٱلْعَلِيمِ

(তিনি) প্রভাত উদ্ভাসক। তিনি বানিয়েছেন রাতকে প্রশান্তি এবং সূর্য ও চন্দ্রকে সময় নিরূপক। এটা সর্বজ্ঞ পরাক্রমশালীর নির্ধারণ।

Al-Isra' 17:12

পবিত্র কুরআন — বাণী

وَجَعَلْنَا ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ ءَايَتَيْنِۖ فَمَحَوْنَآ ءَايَةَ ٱلَّيْلِ وَجَعَلْنَآ ءَايَةَ ٱلنَّهَارِ مُبْصِرَةً لِّتَبْتَغُوا۟ فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا۟ عَدَدَ ٱلسِّنِينَ وَٱلْحِسَابَۚ وَكُلَّ شَىْءٍ فَصَّلْنَٰهُ تَفْصِيلًا

আর আমি রাত ও দিনকে করেছি দু’টো নিদর্শন। অতঃপর মুছে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি আলোকময়, যাতে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বর্ষসংখ্যা ও হিসাব জানতে পার। আর আমি প্রত্যেক বিষয় বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।

NB: Lunisolar Calendar এর ব্যাপারে ধারণা না থাকলে জানার চেষ্টা করুন, প্লীজ। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

©আলম - ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ইং, রাত ৮টা ১৬মি.

পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।