উপহাস

আলম এম.আলম এম.২৮ আগস্ট, ২০২৬

আমরা কোরআনের পাশাপাশি অন্য বহু কিতাবে বিশ্বাস ও মানি বিধায় কোরআনের আদেশ আমাদের ভাবায় না বা কোন পরিবর্তন আনায় না। আমরা আল্লাহ কে মানি মুখে আর সামাজিকতায়, কাজে নয়। তাই আল্লাহর আদেশ আমরা আল্লাহকে সুর করে শুনিয়ে তৃপ্তি পাই, জীবনে পালন করে নয়। যেমন -

আল্লাহ কাউকে উপহাস করতে, দোষারোপ করতে, বডি শেমিং মানে মন্দ নামে ডাকতে নিষেধ করেছেন। যারা এসব করে আল্লাহর কাছে তারা যালিম।

কিন্তু আপনি আমি নোয়াখাইল্লা, কাইল্লা, ভোটকা, চিকনা, টিজ করা বা কারো ব্যার্থতায় হাসাহাসি মানে উপহাস করি।এমন মুসলমানের সংখ্যা প্রচুর যা আমারা ফিমেইল সেলিব্রেটিদের ছবি বা ভিডিওর কমেন্টে দেখতে পাই। আমাদের সো কলড আলেমরা এক অপরকে দোষারোপ, গালাগালি করছে। আল্লাহর আদেশ কি তাদের জানা নাই?

হে মু’মিনগণ! কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন মহিলা অপর কোন মহিলাকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিনী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করনা এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকনা; ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এ ধরণের আচরণ হতে নিবৃত্ত না হয় তারাই যালিম।(সুরা আল- হুজরাত,আয়াত ১১)

এই আয়াত অনুযায়ী আমরা যেসব ধর্মীয় বক্তাদের দোষারোপ করতে দেখি, আল্লাহর কাছে তারা যালিম। এমনকি আমরা যারা অন্যকে মন্দ নামে ডাকি বা অন্যকে দোষারোপ করি,আমরাও।আর এই আদেশ ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য শয়তান আমাদের দিয়েছে নানা ধরনের কোরআনের বাইরের আমল যা করলে নানা সোয়াব আর নেকি।

আল্লাহর কথাই হাদিস আর আল্লার আদেশ নিষেধই সুন্নত।সকল নবী রাসূল আল্লাহর সুন্নত প্রচার করেছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন, নিজেদের সুন্নত নয়। তাই তারা অনুকরণীয় আদর্শ হয়েছেন পুরো বিশ্ববাসীর জন্য আর শুধু কোরআন ছিল উনাদের জীবন বিধান।

তাহলে মানুষ এই বিধান জিবনে কায়েম না করে মুখস্থ করে কেন?

তাইতো আল্লাহ বলছেন সালাত কায়েম মানে প্রতিষ্ঠা করতে। এই জিবন বিধান কায়েম না করে আমরা তাকে মন্ত্রের মত মুখস্থ করে গুনাহ মাফ আর জান্নাত প্রাপ্তির মাধ্যম করেছি অথচ এই কুরআনে দেয়া আদেশগুলো বা বিধানগুলোই আল্লাহ সৎকর্ম বলেছেন আর সেই সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহ জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কোরআনের পাতায় পাতায়।

কিন্তু মানুষ এসব নিয়ে চিন্তা করে না কেন,এসব বললে তর্ক করে আর সবার আর বাব দাদার উদাহরণ দেয় কেন?

তাইতো আল্লাহ বলেছেন কুরআন চিন্তাশীলদের জন্য -

আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট তারা যারা চিন্তা করে না।আর বলেছেন অধিকাংশ মানুষ মিথ্যা বলে,অধিকাংশ জাহান্নামি, অধিকাংশ তর্কপ্রিয় আর অধিকাংশকে অনুসরণ করলে তারা তোমায় জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

পাঠক প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? অনুভূতি প্রকাশ করুন

একটি ক্লিকেই লাইক, লাভ বা আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন

মোট প্রতিক্রিয়া: 0
আপনার যেকোনো প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বেনামী ও সুরক্ষিত
শেয়ার করুন:
FacebookWhatsAppXTelegram
পোস্ট ভিজিটর পরিসংখ্যানপাঠক এনগেজমেন্ট ও পরিসংখ্যান
মোট পাঠক
০ জন
০ টি ভিজিট সেশন
মোট পঠন সময়
০ সেকেন্ড
পাঠকদের ব্যয়কৃত মোট সময়
গড় পঠন সময়
০ সেকেন্ড
প্রতি পাঠক গড়ে অবস্থান
পেজ ভিউ
০ বার
আর্টিকেল পড়ার সংখ্যা
আলম এম.

কুরআনের শব্দ ও সংখ্যা গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়। আমি সেই চিহ্নগুলো অনুসরণ করি। আমি আলম, পাঠ্যের কাছে নম্র, বিশ্লেষণে কঠোর। লিখি নিজের বোধ থেকে; চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে।