কয়দিন আগে আমার এক বন্ধু সূরা আত-তাহরীম (৬৬) এর ৩ নম্বর আয়াত ইনবক্সে শেয়ার করেন, যা নিম্নরূপ:
وَ اِذۡ اَسَرَّ النَّبِیُّ اِلٰی بَعۡضِ اَزۡوَاجِهٖ حَدِیۡثًا ۚ فَلَمَّا نَبَّاَتۡ بِهٖ وَ اَظۡهَرَهُ اللّٰهُ عَلَیۡهِ عَرَّفَ بَعۡضَهٗ وَ اَعۡرَضَ عَنۡۢ بَعۡضٍ ۚ فَلَمَّا نَبَّاَهَا بِهٖ قَالَتۡ مَنۡ اَنۡۢبَاَکَ هٰذَا ؕ قَالَ نَبَّاَنِیَ الۡعَلِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ
অর্থ: আর যখন নবী তার এক স্ত্রীকে গোপনে একটি কথা বলেছিলেন; অতঃপর যখন সে অন্যকে তা জানিয়ে দিল এবং আল্লাহ তার (নবীর) কাছে এটি প্রকাশ করে দিলেন, তখন নবী কিছুটা তার স্ত্রীকে অবহিত করিল আর কিছু এড়িয়ে গেল। যখন সে তাকে বিষয়টি জানাল তখন সে বলল, ‘আপনাকে এ সংবাদ কে দিল?’ সে বলল, ‘মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন।’ And [remember] when the Prophet confided to one of his wives a statement; and when she informed [another] of it and Allah showed it to him, he made known part of it and ignored a part. And when he informed her about it, she said, "Who told you this?" He said, "I was informed by the Knowing, the Acquainted."
বন্ধু এই আয়াতটি দিয়ে যে ব্যাপারটা বুঝাতে শেয়ার করেছিলেন তা হলো, আল্লাহ্ রাসূলকে ওহী প্রেরণ ছাড়াও রাসূলের সাথে কথা বলতেন, তাই হলো বিশেষ হাদিস, অর্থাৎ হাদিসে কুদসি। আর সাধারণভাবে রাসূল সাহাবীদের সাথে দৈনন্দিন যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তা হলো হাদিস।
আমি হাদিসে কুসসি নিয়ে ভাবনায় পরে গেলাম। কুরআনের আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ্ তো ওহী ছাড়াও রাসূলের সাথে কথা বলতেন। ভাবতে ভাবতেই উত্তর পেয়ে গেলাম। আর তা হলো, আল্লাহ্ ও রাসূলের মাঝে বিশেষ কথা যা রাসূল প্রকাশ (disclosed) করেননি। আল্লাহ্ যদি চাইতেন তবে সূরা ৬৬ এর আয়াত ৩ এর মাঝেই বলে দিতেন। কিন্তু তা হয়নি। এতে বুঝা যায়, আল্লাহ্ এবং রাসূলের মাঝে আলাদাভাবে যে কথা হতো তা আমাদের কাছে অপ্রকাশিত। আমরা এখন হাদিসে কুদসি নাম দিয়ে "রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহ্ বলেন যে..." এভাবে আমাদের মাঝে কে বা কাহারা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং সেটার প্রচার প্রসারে আমাদের আলেম সমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। আম জনতা তো বোকা। তারা প্রশ্ন করে না। অমুক আলেম বলেছেন তো নিশ্চয়ই ঠিক বলেছেন!
একটা ঘটনা বলি, তাহলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। দুইদিন আগেই একটা ফেসবুক গ্রুপে একজন একটা পোষ্ট দেন, যা ছিলো মোটামুটি নিম্নরূপ:
"কিয়ামতের মাঠে নামাজের হিসাব সবার আগে নেওয়া হবে।" - আল-কুরআন
আমি সাথে সাথেই মন্তব্য করে বলি যে, কুরআনের আয়াত দেখান।
উত্তরে তিনি আমাকে একটা স্ক্রিনশট দেন। সেখানে লেখা ছিলো, "কিয়ামতের মাঠে নামাজের হিসাব সবার আগে নেওয়া হবে।" - হাদিসে কুদসি
আমি তাকে পাল্টা মন্তব্যে বললাম, আমাকে কুরআনের আয়াত দিন।
এবার তিনি রেগে গিয়ে বললেন, "নাউজুবিল্লাহ, আপনি তো কুরআন অস্বীকারকারী"।
আমি আর এর উত্তর দিতে পারিনি। হতে পারে তিনি আমাকে ব্লক করে দিয়েছেন।
এবার মূল আলোচনায় ফিরে আসি। হাদিসে কুদসি তবে কি প্যারালাল কুরআন হিসাবে কোনো একটা গোষ্ঠী বা শ্রেণী প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে?
কুরআন দিয়ে সাধারণ অনেক হাদিসের বক্তব্য বাতিল হয়ে যায়। হাদিসে কুদসি তবে কি নতুন পরিকল্পনা? সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে, কোনটা কুরআন আর কোনটা কুরআন নয়!
ধ্বংস হোক ওরা, যারা আল্লাহর কিতাব কুরআনের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।

