কোরআনের কথা থেকে সবাই উপদেশ গ্রহণ করবে না। আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, যারা বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন, শুধু তারাই এই কোরআনের কথাগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা রা'দ-১৯)
আল্লাহর দেয়া উপদেশ দেখা যাক।
তোমরা যখন ঋণ দেওয়া-নেওয়া করো, তা লিখে রাখো লেখক বা স্বাক্ষী রেখো ন্যায় ভাবে। আর ঋণ গ্রহণকারীর কঠিন পরিস্থিতিতে তার পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিবে। [বাকারা ২৮২/২৮০]
আমরা এত সুন্দর উপদেশ জানতে বা পালনে জোড় না দিয়ে, তা কেন সুর করে শিখতেই সবাই ব্যাস্ত?
শুধু তেলাওয়াত করে আল্লাহর উপদেশ ঢেকে দিয়ে কিভাবে আপনি আল্লাহর হুকুম কায়েম করবেন?
এই জন্যই আল্লাহ বলছেন, তোমাদের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখফেরানতে কল্যান নেই, কল্যান আছে সালত প্রতিষ্ঠায় (সুরা বাকারা)। আর ততক্ষন তুমি সালাতে দাঁড়াবে না যতক্ষণ না তুমি বুজতে পারছো, তুমি কি বলছো (সুরা নিসা আয়াত ৪৩)।
আর আমাদের কাছে এই কথাগুলো লুকিয়ে বলা হয়,
চুরি করুন, ডাকাতি করুন বাটপারি করুন কিন্তু নামাজ পড়ুন৷ কারন, নামাজ বেহেসতের চাবি৷ সারাজীবন আকাম কুকাম করে বেড়াবেন সমস্যা নাই৷ শেষ বয়সে এসে একটা মসজিদ, অথবা মাদ্রাসা নির্মান করে যাবেন অথবা একটা সন্তানকে হাফেজ বানাবেন৷ তাহলে জান্নাত কনফার্ম। জান্নাত আর কেউ আপনার থেকে কেড়ে নিতে পারবেনা। কিন্তু এভাবে জান্নাত প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি আল্লাহ কই দিয়েছেন?
অন্যের টাকা মেরে দিয়েছেন, ঘুষ খেয়ে দুর্নিতী করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন? কোন সমস্যা নাই।
হাল্কা কিছু টাকা ব্যয় করে স্বামী স্ত্রী দুজনই হজ্ব করে আসুন৷ নিষ্পাপ শিশুর মত পাপমুক্ত হয়ে যাবেন৷ আবার আলহাজ্ব নামের টাইটেল পাবেন, উপরন্তু ইসলামি অনুষ্টানে সভাপতি হওয়ারও সম্ভাবনা বেশি৷ এছাড়া আশি বছরের গুনাহ মাপের দোয়া তো আছেই।
এতিমকে গলা ধাক্কা দিয়েছেন, তার সম্পদ আত্বসাত করেছেন? কোন সমস্যা নাই। আল্লাহর ওয়াস্তে মাদ্রাসা নির্মানে ৫০ বস্তা সিমেন্ট দিন৷ নুরের টুপি মাথায় পরে বিনা হিসেবে জান্নাত৷ তাছাড়া 'সুবাহানাল্লাহ" পড়ে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাপের সুযোগ তো আছেই!
এইসবই বর্তমান যুগের মৌলিক ইসলামি ধ্যান ধারনা।
মুসলমানেরা কুরআনকে শুধুমাত্র নামাজে পড়ার মন্ত্র হিসেবেই গ্রহণ করেছে। জিবন বিধান হিসেবে নয়।
এছাড়া প্রতি হরফে দশ নেকি পাওয়ার জন্য তেলাওয়াত করে খতম করে, আর হাফেজগণ জান্নাতের টিকিট হিসেবে মুখস্থ করে!!
অথচ আল্লাহ কিতাব পাঠিয়েছেন কিতাবে বর্ণিত আদেশ গুলো পালন করতে এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকতে।
মোল্লারা/আলেমরা কুরআনকে মসজিদের বাইরে কোন কাজেই ব্যবহার করতে চায় না। তাই বর্তমান প্রজন্ম জানেই না কুরআন তাকে সব ক্ষেত্রে পথ নির্দেশনা দিতে পারে। তারা শুধু জানে কুরআনের সুরা একেকটা মন্ত্র যা বিয়ে, কুরবানি, জন্ম, মৃত্যুর দোয়াতে মুখস্থ পড়তে হয়। আর সে শুধু জানে নামাজ পড়তে গেলে কোরআনের কিছু সূরা মুখস্ত করতে হবে। ব্যাস! এটুকুই,এর বাইরে কুরআনের আর কোনো ব্যবহার নেই।
আর শুধু কোরআনকে জীবন বিধান হিসেবে মেনে নিলে ধর্মের দোকানদারদের আর ব্যবসা টিকেনা। তাই তারা কোরআনকে একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে না।
আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি কুরআন যা বিশ্বাসীদের জন্যে প্রশান্তি ও রহমত স্বরুপ কিন্তু যারা ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, জুলুম বা অবিচারকারী, সীমালঙ্গণ কারী, পাপ কিংবা পাপাচারী তাদের তো এই কুরআন কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে চলেছে (সূরা বানী ইসরাঈল-৮২)।

