বিষয়: সূরা আল-কিয়ামাহ ৭৫:২২–২৫ - আল্লাহকে কি দেখা যাবে?
সঞ্চালক:
আজকের আলোচনার বিষয় সূরা আল-কিয়ামাহ ৭৫:২২–২৫।
একপক্ষ বলছে, এখানে কিয়ামতের দিনে আল্লাহকে দেখা যাবে।
অন্যপক্ষ বলছে, এটি “দর্শন” নয়, বরং “প্রত্যাশা ও মানসিক অবস্থা”।
চলুন শুনি দুই পক্ষের যুক্তি।
পক্ষ (প্রচলিত মত)
বক্তা ১:
৭৫:২৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
“إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ”
এর অর্থ স্পষ্টভাবে - “তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।”
“إِلَىٰ” মানে “দিকে”, তাই এখানে দৃষ্টি সরাসরি আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ। অতএব, কিয়ামতের দিনে মুমিনরা আল্লাহকে দেখবে - এটাই স্বাভাবিক অর্থ।
বক্তা ২:
আরবি “نَاظِرَةٌ” মানে দেখা। তাই আয়াতটি কোনো রূপক নয়, বরং বাস্তব দর্শনের কথা বলছে।
বিপক্ষ (সমন্বিত কুরআনিক ব্যাখ্যা)
বক্তা ১:
এই ব্যাখ্যায় একটি বড় ভাষাগত সীমাবদ্ধতা আছে।
“نَاظِرَةٌ” (nāẓirah) শব্দের root হলো:
na-ẓa-ra (ن ظ ر)
এই root শুধু “দেখা” বোঝায় না। বরং এটি কুরআনে ব্যবহৃত হয়:
- অপেক্ষা করা
- প্রত্যাশা করা
- মনোযোগ দেওয়া
- আশা করা
তাই এখানে “seeing” একমাত্র অর্থ নয়।
বক্তা ২:
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৭৫:২২–২৫ পুরো অংশ কী বলছে?
একদল মানুষ:
- মুখ উজ্জ্বল
- আশাবাদী
- রবের প্রতি প্রত্যাশায় থাকা
অন্যদল:
- মুখ সংকুচিত
- ভয় ও আতঙ্কে থাকা
- শাস্তির আশঙ্কা
এখানে কোথাও “আল্লাহকে দেখা” বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র নয়, বরং মানুষের মানসিক অবস্থা।
বক্তা ৩:
আর যদি “আল্লাহকে দেখা” বলা হয়, তাহলে একটি সমস্যা তৈরি হয়।
সূরা আনআম ৬:১০৩:
“দৃষ্টি তাকে ধারণ করতে পারে না।”
যদি আল্লাহকে দেখা সম্ভব হতো, তাহলে এই আয়াতের সাথে সরাসরি বিরোধ তৈরি হতো।
বক্তা ৪:
আর সূরা আরাফ ৭:১৪৩-এ মূসা (আ.)-এর ঘটনা - মূসা (আ.) আল্লাহকে দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উত্তর ছিল: “তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পারবে না।”
এটি মানবিক দৃষ্টির সীমা নির্ধারণ করে।
বক্তা ৫:
আরবি ভাষায় “إِلَىٰ” সবসময় শারীরিক দিক বোঝায় না।
এটি ব্যবহার হয়:
- উদ্দেশ্য
- মনোযোগ
- প্রত্যাশা
তাই “إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ” অর্থ হতে পারে:
“তারা তাদের রবের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে।”
সঞ্চালক (ফাইনাল সিদ্ধান্ত) - উভয় পক্ষের যুক্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়: ৭৫:২২–২৫ আয়াত মূলত মানুষের দুই ধরনের অবস্থা বর্ণনা করছে:
- আশাবাদী মুখ (রহমতের প্রত্যাশা)
- ভীত মুখ (শাস্তির আশঙ্কা)
“নাযিরাহ” শব্দকে শুধুমাত্র “দেখা” অর্থে সীমিত করলে কুরআনের অন্যান্য আয়াতের সাথে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়।
উপসংহার:
- এই অংশে আল্লাহকে দেখার কোনো সরাসরি বক্তব্য নেই
- বরং এটি কিয়ামতের দিনে মানুষের মানসিক অবস্থার চিত্র
- “নাযিরাহ” = প্রত্যাশা ও অপেক্ষার অবস্থা

